আনওয়াইন্ডিং অ্যাংজাইটি (Unwinding Anxiety): কাজ করতে চেয়েও আটকে যাওয়ার মানসিক ব্যাখ্যা ও সমাধান
আপনি কি কখনো এমন অবস্থার মধ্যে পড়েছেন—সবকিছু করার ইচ্ছা আছে, সময় আছে, প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও আছে, কিন্তু তবুও আসল কাজগুলো শুরুই করতে পারছেন না? বিশেষ করে চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে এই সমস্যাটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পড়াশোনা করা দরকার, স্কিল ডেভেলপ করতে হবে, হাতে কাজের অভাব নেই—তবুও দিনের পর দিন গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো পড়ে থাকে।
দিনের শেষে নিজের ওপর নিজেই বিরক্ত হয়ে যান। চায়ের দোকানে বসে নিজেকে দোষারোপ করেন। ধীরে ধীরে জীবনের লক্ষ্য ছোট হতে থাকে। আত্মবিশ্বাস ক্ষয়ে যায়। একসময় মানুষটা যেন অর্ধেক মানুষে পরিণত হয়—নির্জীব, ক্লান্ত, ঘুমহীন, আত্মীয়-স্বজন এড়িয়ে চলা এক নিঃসঙ্গ সত্তা।
কিন্তু আপনি কি জানেন—এটা অলসতা নয়, ব্যর্থতাও নয়?
এটা আসলে একটি মানসিক রোগের লক্ষণ।
সমস্যার নাম অ্যাংজাইটি, কিন্তু আমরা বুঝি না
আমরা সাধারণত যেকোনো মানসিক অস্বস্তিকে “অযথা দুশ্চিন্তা” বলে উড়িয়ে দিই। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, সব দুশ্চিন্তা অ্যাংজাইটি নয়। আবার অ্যাংজাইটি মানেই ভয় বা প্যানিক অ্যাটাকও নয়।
Unwinding Anxiety বইটি এই জায়গাটাতেই আলাদা।
লেখক জাডসন ব্রিউয়ার দেখিয়েছেন—আমরা যারা সাধারণ মানুষ, মস্তিষ্কের জটিল কাজকর্ম বুঝি না, তারা অ্যাংজাইটির আসল রূপটা ধরতেই পারি না। ফলে কাজ করতে গিয়ে একটু চাপ অনুভব করলেই ভেবে বসি, “আমাকে দিয়ে কিছু হবে না”।
এই ভুল বোঝাবুঝিটাই ধীরে ধীরে আমাদের কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
কাজ করতে চান, কিন্তু আটকে যাচ্ছেন কেন?
আনওয়াইন্ডিং অ্যাংজাইটি বইটি খুব পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করে—
আমরা কাজ না করার অভিযোগ করি, কিন্তু বুঝতে চাই না আমাদের মাথার ভেতরে আসলে কী চলছে।
-
কেন শুরু করতে গেলেই ভয় আসে
-
কেন কাজের কথা ভাবলেই বিরক্তি তৈরি হয়
-
কেন বারবার প্রোক্রাস্টিনেশন হয়
-
কেন নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি
এসবই অ্যাংজাইটির আচরণগত ফলাফল।
এই বইটি দেখায়, অ্যাংজাইটি কীভাবে আমাদের মস্তিষ্কে “প্যাঁচ” তৈরি করে ফেলে। আর যতই আমরা জোর করে কাজ করতে চাই, প্যাঁচ ততই শক্ত হয়।
Unwinding Anxiety মানে কী?
Unwinding Anxiety শব্দের অর্থই হলো—
👉 অ্যাংজাইটির প্যাঁচ খুলে দেওয়া
অ্যাংজাইটি কোনো একদিনে তৈরি হয় না, আবার একদিনেই যায়ও না। এটি অভ্যাসের মতো গড়ে ওঠে। জাডসন ব্রিউয়ার দেখিয়েছেন—এই অভ্যাসগুলোকে বুঝে, ধীরে ধীরে উল্টো পথে হাঁটলেই অ্যাংজাইটির প্যাঁচ আলগা করা সম্ভব।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—
সমস্যাটা গভীর হলেও সমাধানটা ভয়াবহ জটিল নয়। বরং খুবই সরল, যদিও সময়সাপেক্ষ।
লেখক কেন বিশ্বাসযোগ্য?
এই বইটি আর দশটা সেলফ-হেল্প বইয়ের মতো নয়।
কারণ লেখক জাডসন ব্রিউয়ার—
-
একজন PhD হোল্ডার গবেষক
-
একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
-
বহু বছর ধরে অ্যাংজাইটি ও অভ্যাসগত আচরণ নিয়ে গবেষণার সাথে যুক্ত
তিনি গল্প শোনান না, মোটিভেশনাল কথা বলেন না। তিনি বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকে দেখান—মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে এবং আমরা কীভাবে সেই প্রক্রিয়াকে আমাদের পক্ষে ব্যবহার করতে পারি।
বইটি পড়তে ও কাজে লাগাতে কত সময় লাগে?
আনওয়াইন্ডিং অ্যাংজাইটি বইটি পড়তে আপনার সময় লাগবে আনুমানিক ১০ ঘণ্টা।
কিন্তু আসল কাজটি শুরু হবে পড়া শেষ করার পর।
লেখক নিজেই বলেছেন—
এই পদ্ধতিগুলো প্র্যাক্টিস করতে সময় লাগবে প্রায় এক মাস।
এটি কোনো জাদু নয়, বরং একটি প্রক্রিয়া। তবে যারা ধৈর্য ধরে প্রয়োগ করেছেন, তাদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন এসেছে—এমন উদাহরণ বই জুড়েই পাওয়া যায়।
কারা পড়বেন এই বইটি?
এই বইটি বিশেষভাবে উপযোগী—
-
চাকরিপ্রত্যাশী যারা শুরু করতে পারছেন না
-
প্রোক্রাস্টিনেশনে ভুগছেন যারা
-
কাজ করতে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আটকে যাচ্ছেন যারা
-
নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন যারা
-
সেলফ-হেল্প বই পড়ে হতাশ হয়েছেন যারা
Unwinding Anxiety আপনাকে বলবে না “আরও চেষ্টা করুন”, বরং দেখাবে কেন আপনি আটকে যাচ্ছেন।
কেন আনওয়াইন্ডিং অ্যাংজাইটি একটি রত্ন?
সেলফ-হেল্প বইয়ের ভিড়ে আনওয়াইন্ডিং অ্যাংজাইটি (Unwinding Anxiety) আলাদা কারণ—
-
এটি বাস্তব সমস্যাকে চিহ্নিত করে
-
বিজ্ঞানের আলোকে সমাধান দেয়
-
পাঠককে দোষারোপ করে না
-
ধাপে ধাপে পরিবর্তনের পথ দেখায়
এই বইটি আপনাকে “ভালো মানুষ” বানাতে চায় না, বরং কার্যকর মানুষ হতে সাহায্য করে।
উপসংহার
আপনি যদি মনে করেন—
“আমি অলস নই, তবুও কেন কাজ করতে পারছি না?”
“সব বুঝি, তবুও কেন আটকে যাচ্ছি?”
তাহলে সমস্যাটা আপনার চরিত্রে নয়, সমস্যাটা আপনার মাথার ভেতরের প্যাঁচে।
আনওয়াইন্ডিং অ্যাংজাইটি (Unwinding Anxiety) সেই প্যাঁচ খুলে দেখার একটি বৈজ্ঞানিক, মানবিক এবং বাস্তবসম্মত পথ।
এই বই বহু মানুষের কাজে লেগেছে—
আপনারও লাগবে।

Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.